টাইটানিক জাহাজ (Jahaj) সম্পর্কে কিছু তথ্য যেগুলো আমরা জানি না - Unknown facts on Titanic : Ata Gache Tota Pakhi

কিংবদন্তি জাহাজ টাইটানিক তার প্রথম যাত্রাতেই যাত্রী সহ ডুবে যায়| জাহাজ টি (jahaj) তৈরীর পর দাবি করা হয়েছিল টাইটানিক কখনো ডুববে না| কিন্তু প্রথম যাত্রার চতুর্থ দিনেই টাইটানিক দুর্ঘটনার মুখে পরে|



Picture By Courtesy of NOAA/Institute for Exploration/University of Rhode Island (NOAA/IFE/URI)

টাইটানিক (Titanic) জাহাজ (Jahaj) সম্পর্কে না জানা কিছু কথা

লম্বায় ২৬৯ মিটার ৫৩ মিটার উঁচু এই জাহাজটি (Jahaj) ২৪৩৫ জন যাত্রী ৮৯২ জন কর্মী বহন করতে সক্ষম ছিল| লক্ষ করার বিষয় এই জাহাজে মোট ২০ টি লাইফবোট ছিল যা কিনা ১১৭৮ জন যাত্রীর জন্যে পর্যাপ্ত ছিল|

আর.এম.এস.(রয়্যাল মেইল শিপ) কোম্পানি দ্বারা তৈরী এই জাহাজটির মালিকানা ছিল হোয়াইট ষ্টার লাইন নামক একটি কোম্পানি|


টাইটানিকএর দ্বিতীয় যাত্রার জন্যে বিজ্ঞাপন

সেই সময় এই জাহাজের ফার্স্ট ক্লাস স্যুট এর ভাড়া ছিল মোটামুটি ৮৭০ পাউন্ড| যা বর্তমানে ৭৯ লক্ষ ভারতীয় টাকা বা ৯৫ লক্ষ বাংলাদেশী টাকার সমান|
John Jacob Astor IV

জোন জেকব এস্তোর (চতুর্থ) ছিলেন টাইটানিক এর যাত্রী দের মধ্যে সবচেয়ে ধনী যাত্রী|

জানুয়ারী,১৯১২ সালে টাইটানিক এর ইন্সুরেন্স করা হয়েছিল লয়েড (Lloyd's) লন্ডন মেরিন ইন্সুরেন্স কোম্পানি দ্বারা| যার কভারেজ মূল্য ছিল ১০ লক্ষ পাউন্ড| বর্তমান মূল্য অনুসারে যা ৯৮৫ কোটি ভারতীয় টাকা বা ১০৭৫ কোটি বাংলাদেশী টাকার বেশি|

যাত্রা শুরু করার সময় টাইটানিকএ যাত্রী কর্মী মিলিয়ে মোট ২২২৪ জন মানুষ ছিলেন যার মধ্যে ৭১০ কে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল|

২রা এপ্রিল ১৯১২ সালে সম্পূর্ণ হওয়া টাইটানিক তার প্রথম যাত্রা শুরুর দিনের মধ্যে দুর্ঘটনার মুখে পরে       ডুবে যায়| ১০ই এপ্রিল টাইটানিক তার প্রথম যাত্রা শুরু করে 8 এপ্রিল দুর্ঘটনার মুখে পরে|                                                                                                                            By Bain Collection - Library of Congress

টাইটানিক নাম টি গ্রিক পুরান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নেওয়া| এই নামের অর্থ বিরাটকায়| টাইটানিক নামের জাহাজ টি তার সময়ের দ্বিতীয় বৃহৎ জাহাজ| সবচেয়ে বড় জাহাজটি একই জাহাজ তৈরীর কোম্পানি আর.এম.এস. (RMS) দ্বারা তৈরী, নাম এইচ.এম.এইচ.এস. ব্রিটানিক| টাইটানিক এর সমসাময়িক অনুরূপ (Sister Ship) আরএকটি জাহাজ তৈরী হয়েছিল যার নাম ছিল আর.এম.এস.অলিম্পিক|

আরো পড়ুন- জেনে নিন সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার হয় কোন দেশ গুলিতে

এইচ.এম.এইচ.এস. ব্রিটানিক ডুবে যাওয়া জাহাজ গুলির মধ্যেও সবচেয়ে বড়| কিন্তু তবুও টাইটানিক দুর্ঘটনা কে সবচেয়ে বড় জাহাজডুবি বলা হয় কারণ ব্রিটানিক দুর্ঘটনার এটিকে একটি ভাসমান হাসপাতাল হিসাবে ব্যবহার করা হতো এবং সাধারণত বিভিন্ন দেশের আর্মি দ্বারা এটির ব্যবহার হতো|

টাইটানিক এর ধ্বংসাবশেষ জাহাজটির ডুবে যাওয়ার প্রায় ৭৩ বছর পরে আবিষ্কার হয়| ১৯৮৫ সালে একটি আমেরিকান মিলিটারি অভিযানের মাধ্যমে সমুদ্রের ৩৭৮৪ মিটার গভীরে দুই টুকরো অবস্থায় টাইটানিক এর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়| তার অনেক অংশ উদ্ধারের পর সেগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন মিউজিয়াম দর্শকদের জন্যে রেখে দেওয়া হয়েছে| ২০০১ সালে UNESCO দ্বারা টাইটানিক এর ধ্বংসাবশেষকে আন্তর্জাতিক স্তরে সংরক্ষণ করা হয়েছে|

প্রথম যাত্রায় টাইটানিক, বেলফাস্ট, উত্তর আয়ারল্যান্ড

By Robert John Welch (1859-1936), official photographer for Harland & Wolff

টাইটানিক এর অনুরূপ (রেপ্লিকা) তৈরীর অনেক খবর থাকা সত্ত্বেও সেরকম কিছুই হয় নি| ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাবসায়ী সারেল গাউস (Sarel Gaus) এর  টাইটানিক এর অনুরূপ জাহাজ তৈরীর প্রজেক্ট টি বাতিল হয়ে যায়| তার পর ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাবসায়ী ক্লাইভ পালমের (Clive Frederick Palmer) টাইটানিক- তৈরীর প্রস্তাব করেন| আনুমানিক ২০২২ সালের মধ্যে প্রজেক্ট টি সম্পূর্ণ হতে পারে|

চাইনিজ জাহাজ তৈরীর একটি কোম্পানি ২০১৪ সালের জানুয়ারী তে টাইটানিক এর মতো আরো একটি জাহাজ তৈরীর ঘোষণা করে| তবে এই জাহাজ টি একটি রিসোর্ট হিসাবে ব্যবহার হবে|


আর.এম.এস. অলিম্পিক নাম আরো একটি জাহাজ টাইটানিক এর সাথে প্রায় একই সময় একই টিম দ্বারা তৈরী হয়ে ছিল (Sister Ship)| জাহাজটির সিঁড়ি অন্যান্য ভেতরকার অংশ প্রায় একই রকম| এই জাহাজ টির সম্পূর্ণ ইন্টেরিয়র (ভেতরকার অংশ) পরবর্তীকালে ইংল্যান্ডএর white swan নামে একটি হোটেল কোম্পানি কিনে নেয়|


Curtesy: RMS_Titanic, Wikipedia