দেশ বিদেশের ভোট (Vote) বা নির্বাচন (Election) নিয়ে কিছু টুকরো কথা- Ata Gache Tota Pakhi on interesting facts on Election/ Vote


বর্তমান সময় ভারতবর্ষের সবচেয়ে চর্চিত বিষয় হলো ভারতের লোকসভা নির্বাচন (election in india) | এই প্রবন্ধে আমরা নির্বাচন পদ্ধতি তার আনুষঙ্গিক কিছু ইতিহাস সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো | প্রসঙ্গত পাঠকবন্ধুদের সুবিধের জন্যে জানিয়ে রাখি এই প্রবন্ধ কোনো ভাবে বর্তমান নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয় | interesting facts on Election

ফ্রান্স নির্বাচনে ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যালট বাক্স

Photo: By Rama - Own work, CC BY-SA 2.0

ভোট (Vote) বা ইলেকশন (Election) বর্তমান সময়ে জননেতা নির্বাচনের সবচেয়ে বহুল প্রচলিত পদ্ধতি হলেও প্রাচীন সময়ে থেকেই এই পদ্ধতির ব্যবহার হয়ে আসছে |

বিশ্বে নির্বাচন (Vote) ইতিহাসে প্রথম প্রাচীন গ্রীস রোমে ব্যবহার হয়েছিল | এমনকি প্রায় সম্পূর্ণ মধ্যযুগ ধরে রোমান শাসক পোপকে নির্বাচিত করার জন্যেও নির্বাচন প্রদ্ধতি কাজে লাগানো হয়ে থাকতো |
বৈদিক ভারতে রাজা বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীর সর্দার নির্দিষ্ট করার জন্যেও নির্বাচন পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হতো | পরবর্তী সময়ে শোন্ আমলে প্রজারা তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন করতে পারতেন | এমনকি পাল বংশের রাজা গোপাল বাংলার সামন্ত গোষ্ঠীর দ্বারা রাজা হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন | দক্ষিণ ভারতে চোল রাজাদের শাসনকালে প্রজারা তাদের গ্রাম প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করার জন্যে পাম পাতার ব্যবহার করতেন ব্যালট পেপার হিসাবে |

১৯৮০ সালে ব্রিটেনএ ব্যবহার করা ব্যালট পেপার

Picture Credit - Wikipedia - National Library of Wales, Public Domain
interesting facts on Election

কোনো দেশে ভোট (Vote) দানের বয়সগত যোগ্যতা নির্ধারণ সম্পূর্ণ ভাবে সেই দেশের ঠিক করে দেওয়া নিয়মের মধ্যে পরে | ভারতবর্ষে এই যোগ্যতা ১৮ বছর বয়েসের পর দেওয়া হয় |

১৯৬২ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার উপজাতি গোষ্ঠীকে ভোট দানের অধিকার দেওয়া হয় নি | পরবর্তী কালে বছর বা তার বেশি সময় ধরে জেল খাটা অপরাধীদের ভোটে অংশগ্রহণ করা বন্ধ করে দেওয়া হয়|

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর অন্তর্গত যেকোনো দেশের নাগরিক অন্য যেকোনো দেশের পৌর নির্বাচনে অংহগ্রহন করতে পারে যদি সে ব্যাক্তি নির্দিষ্ট পৌর এলাকার মধ্যে বাস করে | দেশীয় নাগরিকতা এর জন্যে বাধ্যতামূলক নয় |

পশ্চিম অস্ট্রলিয়ার যে কোনো নাগরিক এর জন্যে ভোট দান বাধ্যতামূলক | ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যাক্তি ভোট দানে অস্বীকার করলে তার আর্থিক জরিমানা করা হয়ে থাকে | যদি একই অপরাধ দ্বিতীয় বারের জন্যে হয়ে থাকে তাহলে জরিমানার পরিমান আরো বেড়ে যায় |

ভোটদানের (Voting) মাধ্যমে নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া এবং বেশিরভাগ দেশে এই প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ভাবে পরিচালিত করা হয় | আমরা আধুনিক বিশ্বের দুটি উল্লেখযোগ্য নির্বাচন সম্পর্কে জানবো যেখানে এই প্রক্রিয়া খানিকটা ব্যাতিক্রমী |

উত্তর কোরিয়ার নির্বাচনে প্রত্যেকটি আসন "ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ফর দা রেউনিফিকেশন অফ দা ফাদারল্যান্ড" গোষ্ঠীর নির্ধারণ করা প্রার্থীর পক্ষে ভোট করানো হয়ে থাকে | উল্লেখযোগ্য যে উত্তর কোরিয়ায় মোট পাঁচটি রাজনৈতিক পার্টি আছে এবং সবাই একটি গোষ্ঠীর অন্তর্গত হয়ে কাজ করে, ও তাদের মধ্যে কোনো অন্তর্দ্বন্দ্বিতার কোনো খবর পাওয়া যায় না| | বলা বাহুল্য প্রত্যেক আসনে প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করে | নির্বাচনে ব্যবহার করা ব্যালট পেপারে প্রাথীর নামের পশে "হ্যা"/"না" দুটি পছন্দের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেক ভোটদানকারীকে নির্বাচন আধিকারিকএর সামনে তার ভোট দিতে হয় | কোনো কারণবশত কোনো ভোটার প্রাথীর বিরুদ্ধে ভোট দিলে তা অপরাধ হিসাবে গণ্য হয় সেই ব্যাক্তি তার কাজ বাড়ি দুটোই খোয়াতে পারেন | এই নির্বাচনে মোট ভোটারের ৯৯.৯৮% ভোট জমা পড়েছিল যার মুখ্য কারণ হিসাবে দেশের শীর্ষ নেতার আতঙ্ক কে মনে করে থাকে ওয়াকিবহালমহল |

১৯৩৬ এর জার্মানি পার্লামেন্ট ইলেকশন বিখ্যাত (বা কুখ্যাত) এডলফ হিটলার এর তত্বাবধানে হয়েছিল | এই নির্বাচনের একটি মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণের কাছ থেকে জার্মানিতে মিলিটারি শাসন কায়েম করানোর পুরো দেশে একটি মাত্র পার্টির অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যে জনগণের সহমত আদায় করা | জিউস বাকি সমস্ত সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নাগরিকতা তুলে নেবার পর এটা জার্মানির প্রথম ভোট ছিল | ছবিতে হিটলারের নিজস্ব ভোট কেন্দ্রের ব্যালট পেপার দেখানো হয়েছে যেখানে হিটলার ছাড়া আর অন্য কারো পক্ষে মতামত দেবার কোনো উপায় ছিল না |

১৯৩৬ সালে নাত্সি জার্মানিতে হিটলারের ব্যালট পেপার

By no original authorship - original uploader was Zumbo at German Wikipedia, Public Domain

যে কোনো দেশে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথে নির্বাচন প্রচার সবচেয়ে আবশ্যিক বিষয় | এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাজেট এর নির্বাচনী প্রচার ২০১২ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশন করা হয়েছিল | মোট খরচ আনুমানিক বিলিয়ন মার্কিন ডলার| দ্বিতীয স্থানে রয়েছে ভারতের ২০১৪ সালে সাধারণ নির্বাচন (election in india) | মোট খরচ আনুমানিক বিলিয়ন মার্কিন ডলার|

এই প্রবন্ধে কোনো পাঠক বন্ধু নতুন কোনো বিষয় যোগ করতে চাইলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানান|