বিভিন্ন দেশে ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন করা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য - amazing facts about valentines day celebration : Ata Gache Tota Pakhi


এই প্রবন্ধে পৃথিবীর সমস্ত দেশ সম্পর্কে আলোচনা না করলেও বিশেষ কিছু দেশের ভ্যালেন্টাইন্স ডের (Valentines day) কিছু তথ্য সম্পর্কে আমরা জানব| - Ata Gache Tota Pakhi



ছবি প্রতীকী

 
Photo by DESIGNECOLOGIST on Unsplash

ভ্যালেন্টাইন্স ডে (Valentines day) দিনটি সম্পর্কে জানেন না এমন কেউ হয়তো নেই | সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে একজন পাদ্রির মৃত্যু দিবসকে ভালোবাসার দিন হিসেবে পালন করা হয় বিভিন্ন দেশ গুলিতে | বিশেষ করে আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যে এই দিনটি ধুমধাম করে পালন করা হয় এবং একটি হিসেব অনুযায়ী শুধু আমেরিকাতে এই দিনটিতে প্রতি বছর প্রায় 190 মিলিয়ন কার্ড পাঠানো হয়ে থাকে| এই সংখ্যাটি স্কুল কলেজ ও অনন্য প্রতিষ্ঠান আদান প্রদান করা কার্ড এর পরিমাণ ছাড়াই| বিশেষ করে এই দিনটি অর্থনৈতিক কারণে ও গুরুত্বপূর্ণ| 2017 সালে শুধু আমেরিকাতেই প্রত্যেকটি মানুষ গড়ে মাথাপিছু 136 ডলার এই দিনটির জন্য খরচ করেছিলেন যার মোট হিসেব 18 বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি| যুক্তরাজ্যে (UK) শুধু কার্ড ফুল আর চকলেট মিলিয়ে সেই বছর 1.3 বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল| এবার দেখে নেওয়া যাক অনন্য দেশগুলিতে যেখানে ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন করা অনেক পরে শুরু হয়েছিল সেখানে কিভাবে এই দিনটি পালন করা হয় |

১৯৩৬ সালে জাপানে প্রথম বার মরোজোফ লিমিটেড (Morozoff Ltd) নামে একটি কেক প্রস্তুতকারক কোম্পানি ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন করার জন্য প্রচার করে| অবশ্য সেই সময়ের বিজ্ঞাপনগুলি বিশেষত বিদেশিদের আকৃষ্ট করার জন্য প্রচার করা হয়েছিল| পরবর্তীকালে ১৯৫৩ সালে এই আবার কোম্পানিটিই জাপানে ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে প্রিয়জনকে চকলেট উপহার দেবার জন্য প্রচার শুরু করে অন্যান্য জাপানিজ মিষ্টান্ন ও কেক তৈরি কারক কোম্পানি গুলি তাদের অনুসরণ করতে শুরু করে| ১৯৫৮ সালে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর গুলিতে ভালেন্টাইনস ডে সেল দেওয়া হয় ও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে| পরবর্তীকালে ষাটের দশকে করা প্রচার গুলি প্রচন্ড ভাবে জনপ্রিয় হয়| জাপানি ভালেন্টাইনস ডে দিনটি জাপানে অন্যান্য দেশের মতো পালন হয় না| এখানে শুধু মেয়েরাই এই দিনটিতে প্রিয়জনদের বা সহকর্মীদের চকলেট উপহার দেয়| জাপানি মেয়েরা মনে করে যে রবিবার ছাড়া অন্য যেকোনো দিন শুধুমাত্র পুরুষেরা মেয়েদের চকলেট দিতে বাধ্য | এবং এর উপায় হিসেবে আশির দশকে জাপানের মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক কোম্পানি গুলির সংগঠন 14 ই মার্চ আরো একটি বিশেষ দিনের জন্য প্রচার অভিযান শুরু করেন যে দিন পুরুষরা তাদের ভ্যালেন্টাইনস ডে তে পাওয়া চকলেট এর পরিবর্তে মেয়েদের উপহার দিতে পারেন| এই দিনটিকে হোয়াইট ডে বলা হয় | জাপান ছাড়া আরো অনেক দেশে বর্তমানে হোয়াইট ডে পালন করা হয়| জাপানে আরো একটি রোমান্টিক দিন পালন করা হয় যাকে "Date Night" বলা হয় এই দিনটি ক্রিসমাসের আগের দিন পালন করা হয়|

চীনে ভ্যালেন্টাইনস ডে "লাভার্স ফেস্টিভাল" হিসেবে পালন করা হয়| তবে এই দিনটির সাথে আরো একটি বিশেষ দিন পালন করা হয়! দিনটি কে চাইনিজ ভ্যালেন্টাইনস ডে বলা হয় | চিনা ক্যালেন্ডার এর সপ্তম মাসের সপ্তম দিনটিতে এই বিশেষ দিন টি পালন করা হয়ে থাকে | চীনা সংস্কৃতিতে সাথে ভালোবাসার মানুষদের জন্য একটি পুরনো উদযাপন আছে যাকে "দ্যা নাইট অফ সেভেন" বলা হয়! যদিও যুব সমাজে বিশেষ করে যুবকদের মধ্যে হোয়াইট ডে পালন করার প্রবণতা দেখা যায়|
ভারতবর্ষে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ভালেন্টাইনস ডে অনুষ্ঠানের কোন রকম বিশেষ প্রবণতা দেখা যায়নি| তবে এই সময় এর পর থেকে এমটিভি, বিভিন্ন রেডিও অনুষ্ঠান পত্র মিতালী প্রতিযোগিতা মাধ্যমে এর প্রচার ছড়িয়ে পড়ে | যার মূলত পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল গিফট কার্ড প্রস্তুতকারক কোম্পানি গুলি| বর্তমান সময়ে ভারতবর্ষে ভালেন্টাইনস ডে বিপুলভাবে পালিত হচ্ছে এমনকি ভালেন্টাইনস উইক পালন করার প্রবণতা প্রতি বছর বাড়ছে| যদিও ভ্যালেন্টাইনস ডে কে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ এর সাংস্কৃতিক দূষণ হিসাবে হিসেবে বহুবার তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক অরাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে|

নব্বই এর দশকে পাকিস্তানে ভ্যালেন্টাইন্স দিবস বিশেষ টিভি রেডিও অনুষ্ঠান এর প্রচারের ফলে প্রথম প্রচলিত হয়| জামাত--ইসলামী সংগঠন থেকে এই দিনটিকে পালন না করার ডাক দেওয়া হয়| তা সত্ত্বেও যুব সমাজে এই দিন টির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে স্বাভাবিক ভাবেই কার্ড ফুলের ব্যবসা এই সময় রেকর্ড পরিমানে বৃদ্ধি পায়| ২০১৬ সালে প্রথম পেশোয়ার এর স্থানীয় সরকার অফিসিয়ালি এই দিন টি পালন নিষিদ্ধ করে ২০১৭ সালে ইসলামাবাদ হাই কোর্ট পাবলিক প্লেস গুলিতে ভ্যালেন্টাইন্স দিবস পালন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে|

১৯০৯ সালের ভ্যালেন্টাইন্স ডে কার্ড

Photo By Chordboard - Self, from material in my possession., Public Domain  

ইরানএ বর্তমান শতাব্দিতেও ইসলামিক সাংস্কৃতিক সংগঠন শিক্ষক সংগঠন সরাসরিভাবে ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালনের বিরোধিতা করেছেন করছেন | তারা মনে করেন এই সংস্কৃতি ইসলামিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে| ২০১১ সালে ইরানের প্রেস মালিকদের সংগঠন ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে বিক্রি হওয়া কার্ড অনন্য অনন্য উপহার সামগ্রী তৈরি করা বা বিক্রি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন| এই সংক্রান্ত কোনো রকম জিনিস তৈরি, বিক্রয় বা প্রচার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হয় কোনো সংগঠন বা ব্যক্তি তার অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার করা হয় কথা ঘোষণা করা হয়|

প্রাচীন পার্শিয়ান সংস্কৃতি অনুযায়ী ইরানে পৃথিবীর সম্মানে একটি উৎসব পালন করা হয়ে থাকে যে দিনটিতে কেউ তার মা অথবা স্ত্রীকে ভালোবাসা জানাতে পারে| ভ্যালেন্টাইন্স ডের এভাবে এই দিনটিকে পালন করা ক্রমে ক্রমে গৌণ হয়ে উঠছিল| ইরানের সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলি এই দিনটিকে ফেব্রুয়ারি 17 তারিখে একটি জাতীয় দিবস হিসাবে ঘোষণা করার ঘোষণা করার চেষ্টা করছেন যা কিনা ভ্যালেন্টাইনস ডের বিকল্প হিসেবে পালন করা হবে

ইসরাইলে ভ্যালেন্টাইন্স ডে (Valentines day) 14 ফেব্রুয়ারি পালন করা হলেও ভালোবাসা জানানোর জন্য তারা আরো একটি দিন পালন করে|এই দিনটি কে Tu B'Av বলা হয়|  দিনটি হিব্রু ক্যালেন্ডারের 11 তম মাসের 15 তারিখে পালন করা হয়| প্রাচীনকালে মেয়েরা সাদা রঙের পোশাক পড়ে আঙ্গুর খেতে নাচ করতে যেত আর ছেলেরা তাদের জন্য অপেক্ষা করতো| ধর্মনিরপেক্ষ' মানুষেরা আজও এই দিনটিকে ভালবাসার দিবস হিসেবে পালন করে| ইজরাইলি সংস্কৃতিতে আধুনিক কালে এই দিনটি প্রেমের দিন, বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য বা প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার জন্য বিশেষ জনপ্রিয় দিন|



Ata gache tota pakhi-র সঙ্গে থাকার জন্যে আমাদের ফেসবুক পেজ টি লাইক করুন| পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন|